আলোচিত সংবাদ

ফ্লাইওভারের র‍্যাম্পের পিলারে ফাটল পায়নি বিশেষজ্ঞ দল

চট্টগ্রামের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের আরাকান সড়কমুখী র‌্যাম্পের পিলারে কোনও ফাটল পাওয়া যায়নি। বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে র‌্যাম্পটির নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ডিপিএম) কনসালটেন্টস লিমিটেডের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিপিএম কনসালটেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম এ সোবহান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পিলারের ফাটলের যেসব ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে ফাটলের মতো যে চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, তা মূলত কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। মূল স্ট্রাকচারে কোনও ফাটল হয়নি। তিন বছর আগে পিলারের অবস্থা যেমন ছিল এখনও সে রকম আছে। এতদিন হয়তো কারও চোখে পড়েনি। এটা কোনও ফাটল নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘র‌্যাম্পটির পিলার আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ফাটল নেই। এই অবস্থায় হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এরপরও ভেতরে কোনও ত্রুটি আছে কি-না তা তদন্ত করে দেখা হবে। যে জায়গাটাতে মনে হচ্ছে, ওপর দিয়ে ক্র্যাক থাকতে পারে। সেটি আমরা ভেতরের কংক্রিটটা বের করে দেখবো। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এম এ সোবহানের সঙ্গে বিশেষজ্ঞ দলে ছিলেন ডিপিএমের পরিচালক প্রকৌশলী শাহজাহান আলম ও সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার সামি মোহাম্মদ রেজা।একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন র‌্যাম্প নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সের কর্মকর্তারা। ডিপিএমের বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শন শেষে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আলমাস মোড়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ নিয়ে ব্রিফিং করেন ম্যাক্সের প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মনির হোসাইন।

তিনি বলেন, ‘পিলারে কোনও ফাটল নেই। ফাটলের মতো যে চিহ্ন দেখা যায়, এটি কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। পিলারে সাটারিংয়ের যে জয়েন্ট ছিল, তা প্রপার পজিশনে ছিল না। সাটারিং যখন জয়েন্ট দেয়, সে জয়েন্টের মধ্যে আমরা ফোম ব্যবহার করি। সেই ফোমগুলো এখনো আটকে আছে। আজকে ডিজাইনকারী প্রতিষ্ঠান ঘটনাস্থলে গিয়ে ওপরে উঠেছে। তারা জায়গাটি পরিষ্কার করছে। তাতে পিলারে কোনও ধরনের ফাটল পায়নি।’

মনির হোসাইন আরও বলেন, ‘র‌্যাম্পে নির্মাণগত কোনও বড় ত্রুটি নেই। এরপরও এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবো। ভারী যানবাহন যে চলাচল করতে না পারে সেজন্য র‌্যাম্পের মুখে দুয়েকদিনের মধ্যে ব্যারিয়ার বসানো হবে।’২০১০ সালে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ফ্লাইওভারটিতে লুপ নির্মাণের প্রস্তাব করা হলেও তা না মেনে লুপ ছাড়াই নির্মাণ শেষে ২০১৩ সালে ফ্লাইওভারটি চালু করা হয়।

ফ্লাইওভারটি কার্যকরী না হওয়ায় স্থানীয়দের দাবির মুখে পড়ে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আরাকান সড়কমুখী ওই র‌্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। ৩২৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ দশমিক ৭ মিটার চওড়া র‌্যাম্পটি নির্মাণ শেষে ২০১৭ সালে তা চালু করা হয়। র‌্যাম্পটি চালুর তিন বছরের মাথায় সোমবার আরাকানমুখী র‌্যাম্পের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই দিন রাতে চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার ওসি মাঈনুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পাশাপাশি ওই র‌্যাম্প দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!