আলোচিত সংবাদ

পদত্যাগ করেই জয়ের বক্তব্য নিয়ে স্ট্যাটাস দিলেন মুরাদ, রাখলেন ২৮ মিনিট

অবশেষে তোপের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সদ্য পদত্যাগপত্র জমা দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। পরে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি বক্তব্য নিয়ে তার ভেরিফাইড ফেইসবুক পেজে স্ট্যাটাস দেন তিনি।

স্ট্যাটাসটি দেওয়ার পর পর সেটির গণমাধ্যমের কাছে আসে। কিন্তু স্ট্যাটাসটি দেওয়ার মাত্র ২৮ মিনিটের মধ্যে তা আবার সরিয়ে দেন তিনি।স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধ’রা হলো- ”মহান মুক্তিযু’দ্ধ বাঙালির আবেগের জায়গা, আর বিএনপি সেটা নিয়েই খেলে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সজীব ওয়াজেদ জয় নিজের ভেরিফায়েড ফেজবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী চলছে। ২০২১ সালের ২৬ মা’র্চ স্বাধীনতা ঘোষণার এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের ৫০ বছর পূর্তি। দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে সরকার। ৭ মা’র্চের বেশ কয়েকদিন আগে, এই দিবসটি পালনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। তখন দেশের মানুষ মুক্তকণ্ঠে তাদের প্রশংসা করতে শুরু করে। কিন্তু ৭ মা’র্চ বিএনপির অনুষ্ঠানে দেখা যায়, সেখানে বিএনপি নেতারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার নায়ক ও খালেদা জিয়া-তারেক রহমানকে দেশের সেরা মানুষ হিসেবে দাবি করে।

অনুষ্ঠানটি ৭ মা’র্চ ও মুক্তিযু’দ্ধকে কেন্দ্র করে আয়োজন করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তারা স্বাধীনতার ইতিহাসকে বি’কৃত করে উপস্থাপন করেছে। মুক্তিযু’দ্ধ ও স্বাধীনতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জিয়াউর রহমান যেমন উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে, খালেদা জিয়াও তেমনি মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী’ পরিচয় ব্যবহার করে দেশকে দু’র্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের ছে’লে ও বিএনপির কার্যত প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলরা আজ যেভাবে সাধারণ মানুষের মুক্তিযু’দ্ধের আবেগ নিয়ে খেলা করছে, ঠিক একইভাবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই কাজ করে আসছে বিএনপি।

মুক্তিযু’দ্ধে পক্ষের শক্তি দাবি করে, সরলপ্রা’ণ মানুষদের আবেগের সঙ্গে প্রতারণার করে, নিয়মিত মুক্তিযু’দ্ধের আদর্শ বিরোধী কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে এই বিএনপি। এমনকি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিষয়ে এতোদিন চুপ থাকলেও, হঠাৎ করেই মাঠে নেমেছে তারা। কারণ, তাদের রাজনীতির অস্তিত্বই টিকে আছে এই কপটতার ওপর। মুক্তিযু’দ্ধ বাঙালির আবেগের জায়গা, আর বিএনপি সেটা নিয়েই খেলে। তাদের এই লুকোচু’রি খেলার ছদ্মবেশ উন্মোচিত হয়ে পড়লে তারা প্রকৃত অর্থেই পথে বসে যাবে।তাই যেকোনো মূল্যে ইতিহাস বি’কৃত করে, মুক্তিযু’দ্ধকে ট্রা’ম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করে আসছে তারা। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ত্রিশ লাখ মানুষের প্রা’ণ ও প্রায় চার লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান স্বাধীনতাকে নিয়ে যারা এহেন নিচুকর্মে লিপ্ত, তারা নৈতিক বিচারে অ’প’রাধী। তাদের এই অ’প’রাধ অমা’র্জনীয়।

দেশবিরোধী এবং মুক্তিযু’দ্ধের আদর্শকে নস্যাৎ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর দায়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের দ’ণ্ডপ্রাপ্য। তারা এ দেশকে ধ্বংস করার জন্য যা করেছে, গালভরা বুলি দিয়ে তা ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না।”

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!