আলোচিত সংবাদ

‘দেশে যাইয়া কি করমু, এখানে মাসে ৫০ হাজার টাকা পাইতাছি’

টাঙ্গাইলের মধুপুর থানা এলাকার মালদ্বীপ প্রবাসী বাংলাদেশি আবদুর রহিম। গত দেড় যুগ ধরে মালদ্বীপে আছেন। মধ্যবয়সী রহিমের দেশে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার-পরিজন থাকলেও দেশের চেয়ে মালদ্বীপে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।

সম্প্রতি বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার আমন্ত্রণে মালদ্বীপ সফরকালে দেশটির হুলহুমালে এলাকায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আবদুর রহিম জানালেন, মালদ্বীপ থেকে দেশে ফিরতে তার মন চায় না।

স্ত্রী-সন্তান, পরিবার-পরিজন ফেলে কেন ফিরতে মন চায় না এমন প্রশ্নে তিনি হেসে বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি ভালো না, ইনকাম নাই। এখানে থাকলে মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাইতাছি। দেশে যাইয়া কি করমু। আমি এখানে খুব ভালো আছি। চাকরির পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসা করি।’ভারত মহাসাগরের বুকে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের সুদূর পরবাসে ভালো আছেন অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশি। আয়-রোজগার ভালো হওয়ায় দেশে থাকা পরিবার পরিজনকে সুখে রাখতে টাঙ্গাইলের আবদুর রহিমের মতো অসংখ্য প্রবাসী মালদ্বীপে জীবন কাটাচ্ছেন।

মালদ্বীপ সরকারের মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের তথ্যানুসারে, দেশটিতে বর্তমানে লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজারই অবৈধ! অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশি আয়-রোজগার করে নীলসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রে ভালো থাকলেও করোনাকালে বিশ্বের অন্য দেশের মতো পর্যটননির্ভর এ দেশটির অর্থনীতিতেও তা আঘাত হানে। যার প্রভাব প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপরও পড়ে। চাকরি হারিয়ে ১০ থেকে ১২ হাজার প্রবাসী দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হন। তবে বর্তমানে মহামারি কাটিয়ে ফের সরব হয়ে উঠছে মালদ্বীপ। বৈধ ও অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশিরা সুখের মুখ ফের দেখতে শুরু করেছেন

সম্প্রতি দেশটির রাজধানী মালে সফরকালে রাস্তাঘাটে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির দেখা মিলেছে। রাস্তা দিয়ে মিনিট দুয়েক হাঁটলেই বাংলা ভাষার আলাপ কানে ভেসে আসে। মালের হুলহুমালে এলাকার একটি নাইট মার্কেটে গিয়ে শতকরা ৮০ শতাংশ দোকানেই বাংলাদেশি মালিক অথবা কর্মচারীর দেখা মিলেছে। জানা যায়, এখানে বাংলাদেশিরা সরাসরি কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হতে পারেন না। তবে মালদ্বীপিয়ান কারও সঙ্গে পার্টনারশিপে কিংবা বিয়ে করে স্ত্রীর মালিকানা দেখিয়ে ব্যবসা করতে পারেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেন, সব মিলিয়ে তারা ভালোই আছেন। তবে দেশীয় একটি ব্যাংকের শাখা না থাকায় তাদের টাকা-পয়সা পাঠাতে সমস্যা হয়। একবার মালদ্বীপিয়ান রুফিয়াকে ডলারে কনভার্ট করে ঠকতে হয়, আরেকবার দেশে পাঠানোর পর ডলার ভাঙালেও কম টাকা পাওয়া যায়। মালদ্বীপে ভারত ও পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যাংক থাকলেও বাংলাদেশিদের জন্য দেশীয় কোনো ব্যাংক না থাকার অভাববোধ করেন তারা।

মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াল অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসানও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে বলেন, তিনি মালদ্বীপে লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি ব্যাংকের শাখা খোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। এ ব্যাপারে একটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে কথাবার্তাও অনেক দূর এগিয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে মালদ্বীপে বাংলাদেশি একটি ব্যাংকের শাখা চালু হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!