আলোচিত সংবাদ

মীমের চাকরি না হওয়ার কারণ জানালেন পুলিশ সুপার

গত কয়েক দিন আগে বরিশালের মেয়ে আছপিয়ার জমি না থাকায় পুলিশের চাকুরি হচ্ছে না। এমন একটি সংবাদে নেট দুনিয়ার আলোচনার ঝড় তুলে। পরে তার চাকুরির হচ্ছে নিশ্চিত করা হয়।

এই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামেন আসে খুলনার মেয়ে মীমের পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকুরির বিষয়। পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে সাধারণ নারী কোটায় মেধা তালিকায় প্রথম হয়েও ‘জেলায় জমি না থাকায় পুলিশের চাকরি পায়নি মীম আক্তার’।

এ বিষয়ে খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাহবুব হাসান জানান, মীম আক্তার নামে এক তরুণীর পুলিশে চাকরি না হওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। স্থায়ী ঠিকানা নয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‌আনফিট হওয়ায় তাকে চাকরি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে চাকুরি প্রত্যাশী মীমের দাবি, শনিবার (১১ ডিসেম্বর) চাকরির ব্যাপারে খোঁজ নিতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে গেলে আনফিট হওয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। বলা হয়েছিল, স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকরিটা হচ্ছে না। তার বড় বোন বলেন, ‘আনফিট হলে তো আগেই বলে দিতে পারতেন তারা। কিন্তু তা বলেননি। বলা হলো ভূমিহীন হওয়ায় মীমের চাকরি হচ্ছে না।’

মীম জানায়, পুলিশে কনস্টেবল পদে সাধারণ নারী কোটায় আবেদন করেন। গত ২৫ অক্টোবর থেকে তিন দিন খুলনা শিরোমনি পুলিশ লাইন্সে শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ২৮ ডিসেম্বর খুলনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হওয়া লিখিত পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন মীম। মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন। ফল প্রকাশের পর জানতে পারেন, তিনি মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছেন। এরপর খুলনা জেলা পুলিশ লাইন্সে সাধারণ মেডিক্যাল পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হন। গত ১২ নভেম্বর রাতে তাকে নেওয়া হয় ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে। সেখানে ১৩ নভেম্বর সকালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। তারপর খুলনায় ফিরে আসেন। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশন শুরু হয়। সোনাডাঙ্গা থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও সিটিএসবি থেকে তাদের বাসায় তদন্তে আসে।

মীম আরো জানায়, তাদের কাছে ভূমিহীন সনদ জমা দিয়েছি। ৭ ডিসেম্বর জেলা পুলিশ লাইন্সে ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া হয়। এরপর আর কিছুই জানায়নি। ১০ ডিসেম্বর জেলা পুলিশ লাইন্সে খোঁজ নিয়ে কিছু জানতে পারিনি। ১১ ডিসেম্বর খুলনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে যাই। ২-৩ ঘণ্টা অপেক্ষার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির আহম্মেদ জানান, আমার সব ঠিক আছে। তবে স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকরিটা দিতে পারছেন না। এরপর কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসেন।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহম্মেদ বলেন, ‘মেয়েটা সব দিক দিয়েই পারফেক্ট। মেধা তালিকায় প্রথম হয়েছে। তবুও পুলিশের রুলসের কারণে আমরা তাকে নিতে পারছি না। স্থায়ী ঠিকানা লাগবে। সেটা মীমের নেই। বাগেরহাটে তার চাচা, বাবা ও মামাদের কিছুটা জমি রয়েছে। সে যদি বাগেরহাট জেলা থেকে আবেদন করতো তবে সেটা ঠিক ছিল।’

পুলিশ সুপার মাহবুব হাসান বলেন, মীম স্থায়ী ঠিকানা দিয়েছে খুলনার। কিন্তু সেখানে তার কোনও জায়গা-জমি নেই। তার আসল ঠিকানা বাগেরহাটে। আবেদনে বাগেরহাটের তথ্য উল্লেখ্য করেনি। সেক্ষেত্রে সে তথ্য গোপন করেছে। আর খুলনায় তার পরিবার ৩২ বছর বসবাস করছে সেটাও লেখেনি। এ ছাড়া সে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আনফিট ছিল।

উল্লেখ্য, মীমের বাবা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘১৯৮৮ সাল থেকে সোনাডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছি। মীমের জন্ম খুলনাতে। এখানে আমাদের কোনও জমি নেই। পৈতৃক বাড়ি বাগেরহাট জেলার চিতলমারি থানার বড়বাড়িয়া গ্রামে। আমার বাবা আব্দুল লতিফ শেখ জীবিত আছেন। ভিটে বাড়ির জমি তার নামে। আমার নামে কোনও জমি নেই। এ কারণে আমার মেয়েটার চাকরি হচ্ছে না।’

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!