আলোচিত সংবাদ

জোরে আর অশ্লীল কথা বললেই বুঝবেন ‘আওয়ামী লীগ’: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অত্যাচারে দেশের মানুষ এতটাই অতিষ্ঠ হয়েছে যে, দলটির নাম এখন গালিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তাঁর কথায়, ‘কেউ জোরে আর অশ্লীল ভাষায় কথা বললেই বুঝবেন সে আওয়ামী লীগের লোক।’ সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের ভাষা ব্যবহারের মধ্য দিয়েই এটা প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আজ রোববার জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের এক আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব এ মন্তব্য করেন। কৃষক দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘লজ্জা হয়, দুঃখ হয়, যখন দেখি এই দেশের একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী কী ভাষায় কথা বলেন! এটাই কিন্তু আওয়ামী লীগের অরিজিনাল চেহারা। একটা চায়ের দোকানে বসবেন। চায়ের দোকানে বসলে কী করে বুঝবেন যে, কোনটা আওয়ামী লীগ, কোনটা বিএনপি? বুঝবেন যে লোকটা সবচেয়ে জোরে কথা বলতেছে আর অশ্লীল কথা বলতেছে, ওই লোকটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।’

এ সময় নিজের দেখা একটি ঘটনার উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘একটা বাস্তব কথা বলি। আমার বাসার সামনে একটা রিকশা স্ট্যান্ড আছে। একদিন দেখি দুই রিকশাশ্রমিক তর্ক করছে, অনেকটা ঝগড়ার মতো আর ‍কী। একজন আরেকজনকে গালি দিচ্ছে “এই তুই তো আওয়ামী লীগ হয়ে গেছিস।” এটা এখন গালিতে পরিণত হয়েছে। কারণ, এ দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।’

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে নেতা-কর্মীদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান ফখরুল। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) সুচিকিৎসা পাওয়ার জন্য শুধু কথায় হবে না। আমাদের আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি আরও বেগবান করতে হবে, কঠোর করতে হবে। দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার মানুষের অধিকারে বিশ্বাস করে না। সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে আমাদের বন্দী জাতিতে পরিণত করেছে। চিকিৎসার অধিকার সাংবিধানিক হলেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না। উল্টো তাঁর চিকিৎসা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত শিষ্টাচারবিবর্জিত কথা বলা হচ্ছে।’

মির্জা ফখরুলের মতে, খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্র আলাদা করা যায় না। তাঁকে মুক্ত করা মানে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা। এ জন্য তাঁর মুক্তির জন্য জনগণকে রাস্তায় নামিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার ৭৪ বছর বয়সে কোনো দিন শুনিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন কলঙ্কজনক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ এই অবস্থা তৈরি করেছে। এই সরকার তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেছে।’

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!