আলোচিত সংবাদ

চটপটি-ফুচকা বিক্রি করে গাড়ি-বাড়ির মালিক রফিক

রফিক খান (৬২)। চাঁদপুর পৌর শহরের বাসিন্দা। একসময় শহরে ঘুরে ঘুরে শুকনা মুড়ি বিক্রি করতেন। কঠোর পরিশ্রমে ভাগ্য ফিরেছে তার। এখন তিনি ফ্ল্যাট বাড়ির মালিক। রয়েছে নিজ মালিকানাধীন জমি এবং অর্থবিত্তও। এই ভাগ্য বদলে ‘আলাদিনের চেরাগ’ হিসেবে কাজ করেছে তার চটপটি-ফুচকার দোকান।

জানা যায়, রফিক খান চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের খলিশাডুলী এলাকার খান বাড়ি থাকেন। পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী শাহানারা বেগম এবং সুমন খান (৪০) ও মানিক খান (৩৭) নামের দুই ছেলে। তারা বিবাহিত এবং আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী।

রফিক খান বলেন, ছেলেবেলায় আমার পড়শোনার প্রতি তেমন আগ্রহ ছিল না। তাই বসে না থেকে ব্যবসার দিকে ঝুঁকে যাই। উপায়ন্তর না পেয়ে ঘুরে ঘুরে শহরে শুকনা মুড়ি বিক্রি শুরু করি। তেমন আয়ের মুখ না দেখায় পরে তা বাদ দিয়ে মাথায় করে বুট, জলপাই, চালতা, বড়ইসহ হরেক রকম আচার বিক্রি আরম্ভ করলাম। এরপর সেই পুঁজি থেকে ৩২ বছর বয়সে নতুন ব্যবসা হিসেবে চটপটি ফুচকা বিক্রি শুরু করি। এরপর থেকেই আমাকে আর কখনো আর্থিক সংকটে পড়তে হয়নি।

আমার এই চটপটি-ফুচকা বিক্রির বয়স প্রায় ২৮ বছর। ব্যবসার টাকা দিয়ে আমি জমি কিনেছি, ফ্ল্যাট বাড়ি করেছি এবং ছেলেদের প্রতিষ্ঠিত করে বিয়ে দিয়েছি। বড় ছেলে সুমন খানও আমার পথ ধরেই চটপটি ফুচকা ব্যবসা করছে। ওর নিজস্ব গাড়িও রয়েছে। ছোট ছেলে মানিক খানকেও এই ব্যবসার আয়ের টাকা দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলেছি। বর্তমানে সে দুবাই ফেরত হয়ে দেশেই রয়েছে।

তৎকালীন সময়ে আমি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছায় ‘আম মার্কা’ নিয়ে ইউপি সদস্য প্রার্থীও হয়েছিলাম। পরাজিত হয়েছি। পরে রাজনীতিতে আর এগোইনি। নির্বাচিত না হলেও স্থানীয়রা এখনো আমাকে ‘মেম্বার’ বলেই সম্বোধন করেন। আগে দু’বেলা চটপটি-ফুচকা বিক্রি করলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন শুধু একবেলা অর্থাৎ বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্রি করি।

আমার কাছ থেকে চটপটি-ফুচকা তৈরি শিখে স্থানীয় অনেক ছেলেই এখন স্বাবলম্বী। দুজন আমার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। মানুষ আমার তৈরি চটপটি-ফুচকা খেয়ে ভালো বললেই আত্মতৃপ্তি পাই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি মানুষকে চটপটি-ফুচকা তৈরি করে খাওয়াতে চাই। সবার দোয়া কামনা করছি।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!