আলোচিত সংবাদ

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতার আত্মহত্যা, স্ত্রী কারাগারে

কুমিল্লায় যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না (২৯) আত্মহ`ত্যার ঘটনায় দায়ের করা প্ররোচনার মামলায় তার স্ত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রবিবার ( ১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে যুবলীগ নেতার স্ত্রী সৈয়দা সাজিয়া শারমিন উষা (২৮) জামিন আবেন করেন।

পরে শুনানি শেষে বিচারক সোহেল রানা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন বলেন, আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে সৈয়দা সাজিয়া শারমিন উষাকে রবিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।জানা গেছে,

চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর আত্মহ`ত্যার আগে ওই যুবলীগ নেতা হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি ম্যাসেজ লিখেন। ওই সময় সেই লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।সেখানে মুন্না একটি অংশে তাঁর স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখেন, ‘আর পাঁচটা মানুষের মতো আমার জীবন না, আমি আজ চলে যাইতেছি। মনে রাখিস তোর বেইমানি ও পরকীয়ার জন্য আত্মহত্যা করলাম আমি…’। এমরান হোসেন মুন্না কুমিল্লা নগরীর বারপাড়া এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে।

তিনি কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বারপাড়া এলাকার বাসায় আত্মহ`ত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় পরদিন রাতে মুন্নার স্ত্রী উষার বিরুদ্ধে আত্মহ`ত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে কোতয়ালি মডেল থানায় মা`মলা দায়ের করেন নি`হতের বাবা মতিউর রহমান।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নি`হত যুবলীগ নেতা এমরান হোসেন মুন্না বারপাড়া এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে। সে বিয়ে করেন লাকসামের রাজাপুর এলাকার খিলা বাজার গ্রামের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে সৈয়দা সাজিয়া শারমিন ঊষাকে। তারা দুজন কলেজ জীভন থেকে প্রেমের সর্ম্পকে জড়িয়ে পরেন। দুহন এক বছরের সিনিয়র- জুনিয়র। বিয়ের বছর খানেক পর থেকেই তাদের পারিবারিক জীবনে টানাপোড়ন শুরু হয়।ঊষা ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকতো। আর মুন্না প্রথমে কুমিল্লায় একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করলেও পরে চাকরি ছেড়ে কুমিল্লায় ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করে। দিন দিন তাদের মধ্যে সম্পর্কে ফাটল ধরে।

নি`হত মুন্নার পরিবারের অভিযোগ, ঊষা ঢাকায় সোহেল নামের এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এজন্য মুন্নাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতো সে। চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারার অজুহাতে মরে যাওয়া কথা বলে কটাক্ষ করতো। এতে মানসিকভাবে মুন্না ভেঙে পড়েন। গত ২২ সেপ্টেম্বর সে আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে ছবি পাঠায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে। কিন্তু স্ত্রী কর্ণপাত করেনি, কাউকে জানায়নি। বরং উল্টো উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে। এতে মুন্না ক্ষোভে নিজ শোবার ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহ`ত্যা করে। পরিবারের লোকজন আওয়াজ পেয়ে দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃ`ত্যু ঘটে।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!