আলোচিত সংবাদ

‘হত্যা করে ফজরের আযান দিয়ে নামাজে অংশ নেয় জাকির’

কিশোরগঞ্জে প্রায় আড়াই মাস আগে সংগঠিত ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিনের হত্যাকাণ্ডের মূলে ছিল অর্থ আত্মসাৎ। হত্যাকারী মসজিদের মোয়াজ্জিন জাকির হোসেন তাকে খুন করে মসজিদে ফজরের আযান দেয়, নামাজে অংশ নেয়ার পাশাপাশি ভোরে মক্তবে ২০ শিক্ষার্থীকেও পড়ায়।

লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রেপ্তার জাকির হোসেন ব্যবসায়ী রমিজকে হত্যা করে চিল্লায় আত্মগোপনে ছিলেন। গরু ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন খামার ও গবাদী পশুর ব্যবসা করতেন। একথা জেনে তাকে কম দামে গবাদি পশু কিনে দেয়ার কথা বলে কিশোরগঞ্জের কাটাবাড়িয়া ডাউকিয়া মসজিদ এলাকায় নিয়ে যায় জাকির হোসেন।

পরে তিনি কৌশলে তাকে হত্যা করে মসজিদের দক্ষিণ পাশে ফেলে রেখে, টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।মঙ্গলবার গভীর রাতে লক্ষ্মীপুরের একটি মসজিদে চিল্লারত অবস্থায় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মো. জাকির হোসেন (৩৬) কে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করেন।বুধবার ২২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারের র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

চলতি বছরের ৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের কাটবাড়িয়া ডাউকিয়া থেকে অচেতন অবস্থায় গুরুতর জখমপ্রাপ্ত একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। পরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঐ ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করলে আনুমানিক সকাল সাড়ে নয়টায় তিনি মারা যান। ওই ব্যক্তির পাঞ্জাবির পকেটে থাকা কাগজপত্রের মাধ্যমে জানা যায় তার নাম রমিজ উদ্দিন (৬৫), বাড়ি নরসিংদী জেলার মান্দারটেক। পরে নিহত রমিজ উদ্দিনের ছেলে বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-৬) দায়ের করেন।র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার আল মঈন বলেন, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একটি গ্রামের মসজিদে গত পাঁচ বছর ধরে মোয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত আছেন জাকির হোসেন। যেহেতু রমিজ গরু কেনা-বেচার সাথে জড়িত ও খামার প্রতিষ্ঠা করছে তাই কমমূল্যে গরু কেনার ব্যাপারে জাকির তাকে প্রলুব্ধ করেন।

জাকিরের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার সামীন্তবর্তী গ্রামে। সেখানে কম মূল্যে গরু পাওয়া যায়। তাই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে ঘটনার ১০/১২ দিন আগে রমিজকে নিয়ে গরু কেনা-বেচার স্থানে নিয়ে গিয়েছিল জাকির। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংক থেকে ছয় লাখ টাকা তুলে ২ অক্টোবর জাকিরকে নিয়ে প্রথমে মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী এবং পরে বড়পুল এলাকায় যায়। সেখান থেকে রিকশা করে ঘটনাস্থলে যায়। জাকির জানায় গাড়িতে করে গরু এখানে আসবে। রাত বাড়তে থাকলে সুযোগ বুঝে কৌশলে রমিজকে ডাউরিয়া মসজিদের দক্ষিণ পাশে কলাবাগানে নিয়ে যায়, পরে হাতুড়ির আঘাতে তাকে হত্যা করেন জাকির।

হত্যাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে কমান্ডার মঈন আরও বলেন, যেহেতু রমিজউদ্দিন উঠতি বিত্তবান ব্যবসায়ী ছিলেন তাই তাকে প্রায় দু’মাস আগে হত্যা ও টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন জাকির। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়িটিও জাকির হত্যার একদিন আগে কিনেন। লুটের ছয় লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা ইতোমধ্যে সে খরচ করেছে এবং বাকি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে রেখেছেন।

হত্যাকাণ্ডের পর জাকির কিশোরগঞ্জ থেকে মনোহরদী চলে আসেন এবং বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ফজরের আযানের সময় হলে মসজিদে গিয়ে আযান দেন ও নামাজে অংশ নেন। ভোরে মক্তবে ২০ জন ছাত্রকেও পড়ান। ৩ অক্টোবর সকালে রমিজউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি এলাকাবাসী জানতে পারলে জাকির হোসেন ভয় পেয়ে মসজিদ থেকে ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে যায়। নরসিংদী থেকে কয়েকটি জেলায় হয়ে ঢাকার একটি মসজিদে আসেন এবং সেখান থেকে চিল্লায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতী উপজেলায় গিয়ে আত্মগোপনে থাকেন।কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নিহত রমিজউদ্দিন একজন প্রবাসী ছিলেন। তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মালেয়েশিয়া ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে তিনি গরু কেনা-বেচার ব্যবসায় জড়িত। বর্তমানে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খামারের মাধ্যমে লালন-পালন করে বৃহৎ আকারে গবাদী পশুর ব্যবসা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।গ্রেপ্তার মোয়াজ্জিন জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!