আলোচিত সংবাদ

সুগন্ধার বুকে ছবি হাতে প্রিয়জনের খুঁজে বুক ফাঁটা আর্তনাদ স্বজনদের

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লাফিয়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই। তাদের সন্ধানে সুগন্ধার তীরে ভিড় করছেন স্বজনরা। কেউ আবার ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন প্রান্তে খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রিয়জনকে। কারো হাতে নিখোঁজদের ছবি, তা নিয়ে নদী তীরের বাসিন্দাদের দেখাচ্ছেন আর বিলাপ করছেন।

কেউ আবার নদী তীরের মিনিপার্ক, ডিসিপার্ক, লঞ্চঘাট এবং ঘটনাস্থল দিয়াকুল এলাকায় ঘুরছেন। অন্তত নিখোঁজ স্বজনদের মৃতদেহ যেন বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন, সেই প্রত্যাশা।শনিবার সকাল ৮টা থেকে ঝালকাঠি ও বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল লঞ্চঘাট এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ডুবুরি দল সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব তোফায়েল হাসানের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের তদন্ত দল সকাল সাড়ে ১০টায় ঝালকাঠির লঞ্চঘাট এলাকায় এসে পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি পরিদর্শন করেন। লঞ্চের ইঞ্জিন রুমসহ বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে তদন্ত করছেন তারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান।এ সময় তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। এদের রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা বুঝতে পারব দুর্ঘটনার আসল কারণ। যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌ-মন্ত্রণালয় গঠিত ৭ সদস্যের কমিটির অন্যরা হলেন, নৌ পুলিশ সুপার মো. কফিল উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নাজমুল আলম, ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, শিপ সার্ভেয়ার মো. তাইফুর রহমান, নৌ-পরিবহন সংস্থার পরিচালক মামুনুর রশিদ ও বিআইডব্লিটিএ অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।

তাছাড়া জেলা প্রশাসন গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটিও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. নাজমুল আলম, সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশান্ত কুমার দে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেকুন্নাহার, ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া এবং বিআইডব্লিটিএ প্রতিনিধি।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব তোফায়েল হাসান জানান, শুক্রবার সকালে তদন্ত কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়। সরেজমিনে লঞ্চের ক্ষতির পরিমাণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে পরিদর্শন করেছি। রাতে প্রথমে যেখানে গিয়ে থেমেছিলো সেখানে গিয়েও লোকজনের সঙ্গে কথা বলবো। এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!