আলোচিত সংবাদ

স্ত্রীসহ এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন সাবেক কাউন্সিলর

শিক্ষার কোনো বয়স নেই, যেকোনো বয়সে বা যেকোনো পরিস্থিতিতে তা অর্জন করা যায়। আর এই কথাটিকেই আবারো প্রমাণ করে দিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় একসাথে অংশগ্রহণ করেছেন এক দম্পতি। সারাদেশের ন্যায় নাটোরের গুরুদাসপুরেও গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা।

উপজেলা পৌর সদরের বেগম রোকেয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ওই স্বামী-স্ত্রী।পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা দম্পতির নাম মো. ফজলুর রহমান (৪০) ও তার স্ত্রী মোছা. মর্জিনা বেগম (৩০)। মো. ফজলুর গুরুদাসপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের খামারনাচঁকৈড় মহল্লার সাবেক কাউন্সিলর। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তারা। উপজেলার বিয়াঘাট কারিগরি কমার্স কলেজের ভোকেশনাল শাখা’র ২০২২ সালের শিক্ষার্থী তারা স্বামী-স্ত্রী।

ফজলুর রহমান ওই মহল্লার মৃত আসাদ আলী মোল্লা’র ছেলে ও তার স্ত্রী একই এলাকার মৃত-মজিবর রহমানের মেয়ে।পরীক্ষার্থী ফজলুর রহমান বলেন, আমার বয়স এখন ৪০ এর ওপরে। আর আমার স্ত্রীর প্রায় ৩০ বছর। আমাদের সংসারে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন পরে আমরা দুইজন স্বামী-স্ত্রী পরামর্শ করে বিয়াঘাট কারিগরি কমার্স কলেজে ২০২০ সালে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হই।

নিয়মিত স্কুলে না যেতে পারলেও বাড়িতে দুইজন পড়াশোনা করতাম। করোনার কারণে প্রথমে পরীক্ষা না হলেও ২০২২ সালে এসে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।পরিক্ষা অনেক ভালো হয়েছে বলেও জানান তিনি। ফজলুর রহমান আরও বলেন, গতকাল বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা ছিল। আমরা দুইজন একসঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি। আমাদের পরীক্ষাও অনেক ভালো হয়েছে। আগামী শনিবার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছেলে-মেয়েদের কথা চিন্তা করে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেছি। সাধ্যমত চেষ্টা করবো উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার।

এছাড়াও ৫ বছর কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করে সাধারণ মানুষের সেবা করেছি। অনেক জায়গায় ঘুরেছি। দেখেছি যারা নিরক্ষর তাদের কষ্ট। আমি এসএসসি পাশ করার পর ডিপ্লোমা কোর্স করবো আমার স্ত্রীকেও করাবো। একসময় আমার ছেলে মেয়ে বড় হয়ে তারা গর্ববোধ করবে তাদের বাবা মাও শিক্ষিত। তাই আসুন আমাদের মত বয়সের যারা আছেন তারা নতুন করে আবার পড়াশোনা শুরু করেন।ফজলুর রহমানের স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান, আমি ২০০৯ সালে পড়াশোনা বাদ দিয়েছিলাম। আমার স্বামীর আগ্রহে দুইজন পরামর্শ করে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেছি। দুইজন একসঙ্গে বাড়িতে পড়াশোনা করে আবার একসঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছি। আমার খুব ভালো লাগছে। আমরা আরও অনেক পড়াশোনা করতে চাই।ফজলুর রহমানের মা ফুলোয়ারা বেগম জানান, আমার বাড়িতে ছেলে ও ছেলের বউয়ের সঙ্গে যখন নাতি-নাতনিও পড়তে বসে তখন দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি তাদের জন্য সব সময় দোয়া করি।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এই বয়সে এসেও তাদের পড়াশোনার প্রতি যে আগ্রহ আছে তা প্রশংসনীয়।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!