বিনোদন

বিদায়ী বছরে চলে গেলেন যেসব জনপ্রিয় তারকারা

২০২০ সালের মার্চ থেকে শুরু হয়েছে বি’ষময় দিনের সঙ্গে পথচলা। ম’হামা’রি ক’রোনাভা’ইরাস এসে ইতোমধ্যে কেড়ে নিয়েছে লাখ লাখ প্রা’ণ। অদৃশ্য এ শ’ত্রুর সঙ্গে গত প্রায় দুই বছর ধরে লড়ছে বাংলাদেশও। সেই ক’রোনাভীতিকে সঙ্গী করেই শেষ হতে চলেছে আরও একটি বছর। বিদায়ী এ বছরে ক’রোনাসহ নানা রো’গে ভুগে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি না ফেরার দেশে চলে গেছেন বিনোদন জগতের দেড় ডজন তারকা। ইতোপূর্বে যা ঘটেনি। চলুন জেনে নিই তাদের সম্পর্কে।

অভিনেতা মজিবুর রহমান দিলু: বীর মুক্তিযো’দ্ধা ও অভিনেতা মজিবুর রহমান দিলু মা’রা যান গত ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে। তিনি নিউমোনিয়ায় আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন। ভর্তি ছিলেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিটিভিতে প্রচারিত শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ নাটকে ‘বড় মালু’ চরিত্রে অভিনয় করে আলোচিত হয়েছিলেন মুজিবুর রহমান দিলু।

পরিচালক মনোয়ার খোকন: খ্যাতিমান এই চলচ্চিত্র নির্মাতা মা’রা যান গত ৭ ফেব্রুয়ারি। এদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতাসহ নানা রো’গে ভুগছিলেন। নব্বইয়ের দশকে ‘স্বামী কেন আ’সামি’ সিনেমাটি বানিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর আরও বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল সিনেমা নির্মাণ করেন।

এটিএম শামসুজ্জামান: কিংবদন্তি এই প্রবীণ ও গুণী অভিনেতা মা’রা যান গত ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে। রাজধানীর সূত্রাপুরে নিজ বাসাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃ’ত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এটিএম শামসুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। মৃ’ত্যুর আগে দুই দফায় পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসা করান তিনি। কিন্তু সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার কয়েকদিন পরই মা’রা যান।

কণ্ঠশিল্পী জানে আলম: প্রায় চার হাজার গানের শিল্পী জানে আলম মা’রা যান গত ২ মার্চ। মৃ’ত্যুর আগে তিনি ক’রোনাভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে নেগেটিভও হন। কিন্তু ক’রোনা জয়ের পর তিনি নিউমোনিয়ায় আ’ক্রান্ত হন। ভর্তি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে। শা’রীরিক অবস্থার অ’বনতি হলে তাকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। ২ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

প্রযোজক কামরুল হাসান: ‘দেবদাস’ ছবির এই প্রযোজক মা’রা যান গত ১৮ মার্চ। ৭১ বছর বয়সী কামরুল হাসানও বার্ধক্যজনিত অসুখে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। ভর্তি ছিলেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ১৮ মার্চ রাতে চিকিৎসকরা তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। প্রযোজনার পাশাপাশি কামরুল হাসান বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক ও উদ্যোক্তা ছিলেন।

নমিতা ঘোষ: একাত্তরের কণ্ঠযো’দ্ধা নমিতা ঘোষ মা’রা যান গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিনে। তিনি ক’রোনাভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন। ভর্তি ছিলেন রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ছাড়েন। পরদিন রাজধানীর পোগোজ স্কুল প্রাঙ্গণে স্বাধীনতা যু’দ্ধের এই কণ্ঠযো’দ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মৃ’ত্যুকালে নমিতা ঘোষের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

ইন্দ্রমোহন রাজবংশী: এই গায়কও স্বাধীনতা যু’দ্ধের একজন কণ্ঠযো’দ্ধা ছিলেন। তিনিও মা’রা যান প্রা’ণঘাতি ক’রোনাভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে। ভর্তি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক’রোনা ইউনিটে। সেখানেই গত ৭ এপ্রিল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকগানের এই শিল্পী ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, জারি, সারি, মুর্শিদি গেয়েও মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন গ্রাম-বাংলায়। গেয়েছেন রবীন্দ্রসংগীতও।

কণ্ঠশিল্পী মিতা হক: একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক না ফেরার দেশে চলে যান গত ১১ এপ্রিল ৬টা ২০ মিনিটে। তিনি ক’রোনাভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন। পাশাপাশি বহুদিন ধরে কিডনি রো’গে ভুগছিলেন। মিতা হক প্রয়াত অভিনেতা খালেদ খানের স্ত্রী ছিলেন।

সুরকার ফরিদ আহমেদ: ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের টাইটেল সং ‘কেউ কেউ অবিরাম চুপি’র সুরকার ও সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ মা’রা যান গত ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টায়। ২০ দিন ক’রোনাভা’ইরাসের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। মৃ’ত্যুর দুদিন আগে থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ফরিদ আহমেদ। তার ফুসফুসের ৬০ ভাগ ক্ষ’তিগ্রস্ত হয়েছিল। এছাড়া তার ডায়াবেটিসও ছিল।

পরিচালক সাজেদুল আওয়াল: ‘ছিটকিনি’খ্যাত নির্মাতা, চলচ্চিত্রবি’ষয়ক লেখক, গবেষক ও শিক্ষক সাজেদুল আওয়াল মা’রা যান গত ১৫ এপ্রিল। ক’রোনা পরবর্তী জটিলতায় নিজ বাসায় তার মৃ’ত্যু হয়। মা’রা যাওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগে সাজেদুল আওয়াল ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হন। চিকিৎসার পর নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে বাসায়ও ফেরেন। পরে ক’রোনা পরবর্তী জটিলতায় প্রা’ণ হা’রান নির্মাতা।

কবরী সারোয়ার: ‘সারেং বউ’ খ্যাত কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী মা’রা যান গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ২০ মিনিটে। ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে তিনি ১৩ দিন ভতি ছিলেন হাসপাতালে। ৭ এপ্রিল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এবং ৮ এপ্রিল থেকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ৭০ বছর বয়সে ওই অবস্থাতেই না ফেরার দেশে চলে যান কবরী।

এসএম মহসিন: কবরীর মৃ’ত্যুর পরদিনই মা’রা যান জনপ্রিয় টিভি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পী এসএম মহসিন। রাজধানীর বার’ডেম হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মৃ’ত্যুর আগে তিনি ওয়াজেদ আলীর পরিচালনায় ‘অন্তরাত্মা’ নামে একটি সিনেমার শুটিং শেষ করেন।

চিত্রনায়ক ওয়াসিম: অভিনেতা মহসিনের মৃ’ত্যুর দিনেই মা’রা যান সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওয়াসিম। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকার শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে হার্ট অ্যাটাক হয়ে গত ১৮ এপ্রিল তিনি মা’রা যান। মৃ’ত্যুর বহুদিন আগে থেকে তিনি হাটতে পারতেন না। দিন কা’টাতেন বিছানায় শুয়ে শুয়ে।

গীতিকার ওসমান শওকত: অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গীতিকার ও বীর মুক্তিযো’দ্ধা ওসমান শওকত মা’রা যান গত ২৬ এপ্রিল। এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর বনশ্রীতে নিজ বাসায় হৃদরোগে আ’ক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ফকির আলমগীর: তুমুল জনপ্রিয় এই গণসংগীতশিল্পী মা’রা যান গত ২৩ জুলাই। তিনি ক’রোনাভা’ইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছিলেন। ভর্তি ছিলেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃ’ত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। ক’রোনা ইউনিটে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় ২৩ জুলাই ফকির আলমগীরের হার্ট অ্যাটাক হয়। ওই দিন রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।

ড. ইনামুল হক: একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতা না ফেরার দেশে চলে গেছেন গত ১১ অক্টোবর। এদিন বিকাল তিনটার দিকে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে ড. ইনামুল হক কয়েকদিন ধরে ভীষণ অ’সুস্থ ছিলেন। ১১ অক্টোবর দুপুরে অবস্থা গু’রুতর হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ফেরেননি। চলে যান আপান ঠিকানায়।

শামীম ভিস্তি: এই অভিনেতার মৃ’ত্যু হয় গত ২২ অক্টোবর। এদিন ভোর চারটার দিকে রাজধানীর একটি বেস’রকারি হাসাপাতালে মা’রা যান শামীম ভিস্তি। শা’রীরিক অ’সুস্থতাজনিত কারণে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বারবার বমি হচ্ছিল তার। সেই ধকলেই চলে যান না ফেরার দেশে। মৃ’ত্যুকালে শামীমের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদ: ক’রোনা পরবর্তী জটিলতায় প্রখ্যাত এই অভিনেতার মৃ’ত্যু হয় গত ২৪ অক্টোবর। রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদিন বিকাল সাড়ে তিনটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ক’রোনা পরবর্তী জটিলতা নিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন মাহমুদ সাজ্জাদ। শা’রীরিক অবস্থার অ’বনতি হওয়ায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলে যান সেখান থেকেই।

Related Articles

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!