লাইফস্টাইল

যে রো”গের কারণে শি'শুর লিখতে স’মস্যা হয়

চার বা পাঁচ বছর বয়সী একটি ছে'লে বা মে'য়ের সবকিছুই একদম স্বাভাবিক তবে যখন তাকে কিছু লিখতে বলা হচ্ছে তখনই জড়তা এসে ঘিরে ধরছে।পেনসিল ধরতে সমস্যা হয়, অক্ষরগুলো কেমন যেন উল্টোপাল্টা মনে হয়, বানানও ভুল হচ্ছে।

অথচ সে কিন্তু অন্যান্য পড়া মুখস্থ বলতে পারছে।চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের সমস্যাকে বলা হয় ডিসগ্রাফিয়া,এটি একটি নিউরোলজিকাল ডিসঅর্ডার।এমন রোগীদের ইনস্ট্রাকশন শুনে সেই আকৃতি ভেবে লিখতে গেলে সমস্যা হয় ।

ডিসগ্রাফিয়ায় শি'শুর হাতের লেখার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশে ও হাতের সূক্ষ্ম কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। শি'শু আকৃতিগত পার্থক্য করতে পারে না। অক্ষর লেখার জায়গাটি কোথায় ও কতটুকু জায়গাজুড়ে হবে তা ঠিক করতে পারে না।

এমন শি'শুর বাম থেকে ডানে শব্দগুলোকে লিখতে সমস্যা হয়। অক্ষরগুলো একদিকে না লিখে বিভিন্ন দিকে লেখে তারা। লাইন ও মা'র্জিন মেনে লিখতে সমস্যা হয়। দেখে দেখে লিখতে গেলেও সময় বেশি লাগে।

অনেক শি'শুই লিখতে গিয়ে b আর d, p আর q এর মধ্যে গু'লিয়ে ফেলে। সহ'জ বানানও ভুল করে তারা।এটি যে শুধু শি'শুদের হয় তা নয়। পূর্ণবয়স্ক মানুষও এই রোগে আ'ক্রান্ত হতে পারেন। কোনো দুর্ঘ'টনার কারণে মা'থায় গুরুতর আ'ঘাত লাগলে ও এই সমস্যা দেখা যেতে পারে।

সাধারণত ডিসগ্রাফিয়া দুই ধরনের হয়- ব্রেন ইন'জুরির কারণে অ্যাকোয়ার্ড ডিসগ্রাফিয়া ও জন্মগত হলে তাকে বলা হয় ডেভেলপমেন্টাল ডিসগ্রাফিয়া। তবে আসল সমস্যা হলো, এই রোগ পুরোপুরি সারে না।

বড়দের ক্ষেত্রে ব্রেন ইন'জুরির মাত্রার উপরে নির্ভর করে সমস্যা কতটা জটিল। শি'শুদেরকে ক্রমাগত থেরাপি দিতে হয়।ডিসগ্রাফিয়ায় আ'ক্রান্তদের ফাইন মোটর স্কিলের ক্ষেত্রেও সমস্যা থাকে।

দু’ধরনের মোটর স্কিল হয়- ফাইন মোটর ও গ্রস মোটর। জিনিস ধ'রার জন্য যে বিগ মাসলের ব্যবহার হয়, তা হলো গ্রস মোটর স্কিল। যেমন বড় বল, বই, ব্যাগ ইত্যাদি।

ছোট ছোট সূক্ষ্ম জিনিস যেমন পেনসিল, পুঁতি, দানাশস্য- এগুলো ধ'রার জন্য স্মল মাসলের ব্যবহার হয়। জুতোর ফিতা বাঁ'ধা, কাঁচি দিয়ে কিছু কা'টা, লাইনের ভেতরে রং করা এগুলো ফাইন মোটর স্কিলের মধ্যে পড়ে।

এ রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ শি'শুটির বাবা মা ও শিক্ষকের কাছে প্রথম পরিলক্ষিত হয়। ডিসগ্রাফিয়া আ'ক্রান্তদের ছোটখাটো জিনিস যেমন পেনসিল ধরতে সমস্যা হয়। এরা হয়তো তা খুব জো'রে ধরে বা অদ্ভুতভাবে ধরে। অক্ষর ও সংখ্যার আকার সঠিকভাবে দিতে সমস্যা হয়।

এ রোগ থেকে নিরাময় পেতে কি করতে হবে:-আজকাল পেনসিলের গ্রিপ কিনতে পাওয়া যায়, যাতে ওরা সহ'জে পেনসিল ধরতে পারে।ফাইন মোটর স্কিল ডেভেলপ করার জন্য ওদের পুঁতি দিয়ে মালা করতে দেয়া যেতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের পেনসিল আর কলম কিনে শি'শুকে ব্যবহার করতে দিন, যাতে জানা যায় ও কোনটা দিয়ে সব থেকে বেশি ভালভাবে লিখতে পারছে।এমন পৃষ্ঠা ব্যবহার করুন যাতে দুটো সারির মধ্যে ব্যবধান বেশি আছে। এতে শি'শু অনায়াসে সারি ধরে লিখতে পারে।

ছবি, অলঙ্করণ ও ধ্বনিতত্বের সাহায্যে অক্ষর এবং শব্দের সঙ্গে শি'শুর পরিচয় করানোর চেষ্টা করুন যাতে সে অক্ষর ও শব্দ চিনে লিখতে শেখে।বিশেষ ধরনের প্রযু'ক্তি ও শব্দের দ্বারা সক্রিয় হওয়া সফ্টওয়ার (শব্দ আর অক্ষর বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া) ব্যবহার করুন,

যা লেখার ক্ষমতার বিকাশে সাহায্য করে।শি'শুটিকে স্কুলে পরীক্ষার সময় সাধারণের চেয়ে বেশি সময় দিতে হবে।টেপ রেকর্ডারের সাহায্যে স্কুলের পড়া রেকর্ড করে রাখু'ন। বাড়িতে সেটি চালিয়ে শুনে শুনে লেখার অভ্যাস করতে বলুন শি'শুকে।

কম্পিউটার দেওয়া যেতে পারে। কারণ টাইপ করতে তাদের সমস্যা হয় না। সঙ্গে থাকতে হবে অডিও ইনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থা।লেখার বদলে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

কোনো জিনিস শেখানোর জন্য অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের সাহায্য নিতে অভ্যস্ত করান। স্প'র্শ, গন্ধ, দৃষ্টি, শ্রবণ এগুলো কাজে লাগাতে হবে।ডিসগ্রাফিয়ার স'ন্দেহ হলে অ'ভিজ্ঞ এডুকেশনাল বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের কাছে গিয়ে পরাম'র্শ নিতে হবে।

যেহেতু এই রোগের কোনো স্থায়ী সমাধান নেই, তাই নানা কৌশলের মাধ্যমে যতটা সম্ভব এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে হয়। এজন্য দরকার বাবা-মা ও শিক্ষকদের ধৈর্য ও শি'শুটির যত্ন।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!